যদিও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ এবং সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন তা জানায়নি মস্কো।
রবিবার বিকালে টেলিগ্রামে জারি করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ বাশার আল-আসাদ ও সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে সশস্ত্র সংঘাতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আলোচনার ফল হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেছেন বাশার আল-আসাদ।’বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বাশার আল-আসাদের দেশ ত্যাগের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেয়নি রাশিয়া। তবে তিনি দেশ ছেড়েছেন।
এতে বলা হয়, সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক সব ঘাঁটিকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে রুশ কোনও ঘাঁটিতে গুরুতর হুমকি নেই।
মন্ত্রণালয় আরও বলছে, সিরিয়ার সব বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে মস্কো। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে দেশ ছেড়ে প্রেসিডেন্ট আসাদ কোথায় গেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার বিদ্রোহীরা যখন দামেস্কে প্রবেশ করছে, সেই সময় দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে একটি ইলিউশিন৭৫ বিমান আকাশে উড়তে দেখা যায়।
স্বাধীন ফ্লাইট ট্রাকিং ওয়েবসাইট— ফ্লাইটরাডার২৪ বলছে, সিরিয়ান এয়ার ৯২১৮ ফ্লাইটটি দামেস্ক থেকে উড়াল দেওয়া সর্বশেষ ফ্লাইট। দামেস্ক থেকে উদয়নের পর বিমানটি প্রথমে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে উড়ে যায়, যা আসাদের আলাউইট সম্প্রদায়ের শক্ত ঘাঁটি। তবে কিছুক্ষণ পরই আকস্মিক ইউ-টার্ন নিয়ে বিপরীত দিকে উড়তে শুরু করে এবং কয়েক মিনিট পর সেটি মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। অদৃশ্য হওয়ার সময় উড়োজাহাজটি হোমস শহরের ওপরে ছিল বলে জানায় বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখা সংস্থাটি।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, দেশ ছাড়ার পর ইরান কিংবা রাশিয়ায় যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই আসাদের হাতে। আবার, কিছু সূত্র মনে করছে আসাদ এখনও সিরিয়া ছাড়েননি। দেশের সীমান্তবর্তী কোথাও আত্মগোপন করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন তিনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বাশার আল আসাদ রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট আসাদ রাতেই দামেস্ক থেকে বিমানে করে রাশিয়ার খেমাইমিম বিমান ঘাঁটিতে চলে যান। সেখান থেকে তার মস্কো যাওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়াও কোনো কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরীয় সূত্র বলছে- আসাদকে বহনকারী বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এবং প্রেসিডেন্ট আসাদ নিহত হয়েছে। তবে কোনো সমর্থিত সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করতে পারেনি।