বর্তমানে পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে স্বৈরশাসন বা একনায়কতান্ত্রিক শাসন চলছে। এসব দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা সীমিত বা বিলোপ করা হয়েছে, আর ক্ষমতা এককভাবে একজন ব্যক্তি, একটি নির্দিষ্ট দলের কিংবা সামরিক বাহিনীর হাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশগুলোতে পরবর্তী স্বৈরশাসকের পতন ঘটতে পারে। চলুন, এমন কিছু দেশ নিয়ে আলোচনা করা যেগুলোতে এই ধরনের শাসন চলছে :
১. উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া, কিম জং উনের কঠোর একনায়কতান্ত্রিক শাসনে পরিচালিত হয়। দেশের জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রায় নেই বললেই চলে। শাসক পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো বিরোধিতা কঠোর হাতে দমন করা হয়।
২. চীন
চীন যদিও নিজেদের সমাজতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্র বলে দাবি করে, কিন্তু দেশটির ক্ষমতা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) হাতে কেন্দ্রীভূত। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার ক্ষমতা সম্প্রতি আরো সুসংহত করেছেন, যা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের লক্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
৩. বেলারুশ
বেলারুশের শাসক আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপি এবং বিরোধীদের দমন করার কারণে তার শাসন ব্যবস্থা স্বৈরাচারী হিসেবে বিবেচিত।
৪. ভেনেজুয়েলা
নিকোলাস মাদুরোর শাসনে, ভেনেজুয়েলা গণতন্ত্র থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। বিরোধী দলগুলো দমন, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একচেটিয়া করার কারণে দেশটি একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অধীনে চলে গেছে।
৫. রাশিয়া
ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় আছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার ফলে, রাশিয়ার শাসনব্যবস্থা অনেকটাই স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে।
৬. মিয়ানমার
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর ফলে দেশটিতে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৭. ইরান
ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিত হলেও, দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হাতে কেন্দ্রীভূত। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
৮. কম্বোডিয়া
কম্বোডিয়ার শাসনব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক, কিন্তু বহু বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের শাসনে এটি কার্যত স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালে হুন সেনের ছেলে হুন মানেত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের ঘটনার মতো কিছু কম্বোডিয়াতেও ঘটতে পারে, এবং সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য দেশ
এছাড়াও তাজিকিস্তান, ইরিত্রিয়া, তুর্কমেনিস্তান, জিম্বাবুয়ে, বুরুন্ডি, কিউবা, সৌদি আরব, বাহরাইন, উগান্ডা এবং আরও অনেক দেশেও স্বৈরশাসন বা একনায়কতন্ত্র বিদ্যমান। এদের মধ্যে কিছু দেশের শাসনব্যবস্থা আরো দৃঢ় হতে পারে, তাই এই দেশগুলোর ওপর নজর রাখা হবে।
বিশ্বজুড়ে চলমান এই রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। যতদিন পর্যন্ত জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত স্বৈরশাসকের পতনের এই আন্দোলন চলতে থাকবে।